বৃহস্পতিবার, ১৬ Jul ২০২৬, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন
বশির আহমেদ বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:: বান্দরবানে দুই দিনের টানা ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে জেলার সাত উপজেলায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করা প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার পরিবার পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে।
সরজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে, বান্দরবানের সদর উপজেলার কালাঘাটা, কাসেমপাড়া ইসলামপুর, বনরূপাপাড়া, হাফেজঘোনা, বাসস্টেশন এলাকা, স্টেডিয়াম এলাকা, নোয়াপাড়া, কসাইপাড়সহ সাত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের পাদদেশে কয়েক হাজার পরিবারের অপরিকল্পিত বসবাস রয়েছে। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় পরিবারগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে। আর সেই সঙ্গে কয়েকটি পয়েন্টে পাহাড় থেকে মাটি ভেঙে সড়কে জমে থাকায় পথচারীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের শঙ্কা থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।
মাইকিং করে বলা হচ্ছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে (আজ দুপুর ১২টা থেকে) ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। যেহেতু অতি ভারী বর্ষণের ফলে ভূমি ধসের শঙ্কা রয়েছে তাই পাহাড়ের পাদদেশ ও চূড়ায় বসবাসরত সব জনসাধারণকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।
এদিকে টানা দুই দিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু নদীর পানি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে নদীর পাড়ে থাকা ঘরবাড়িগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা জেগেছে।
ইসলামপুরের পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী বাসিন্দারা বলেন, এ ঘর ছাড়া আমাদের অন্য কোনও অবলম্বন নেই। তাই আমরা বাধ্য হয়েই এখানে বসবাস করছি।
বান্দরবান পৌর প্রশাসক মঞ্জুরুল আলম জানান, কয়েকদিনের টানা বর্ষণে পাহাড় ধস এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা সতর্ক অবস্থায় আছি।
বান্দরবান জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা আছে। সাত উপজেলায় পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে থাকা সব বসবাসকারীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে ইতিমধ্যে প্রতিটি উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনওকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।